বহুরূপী বিচ্ছেদ: একজন ভিক্ষুক তিনটে বিলাস-বহুল গাড়ির মালিক

তোপসে, দুবাইয়ের এই ‘দরিদ্র’ ভিক্ষুকটির তিনটে দামী গাড়ি! দিনে অভিনয়ের পর সে বিলাস-বহুল গাড়িতেই চম্পট দিত।

এই ছবিটি শুধুমাত্র স্যাটায়ার (ব্যঙ্গাত্মক হাস্যরস)-এর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

ভিক্ষাবৃত্তি যেভাবে বাড়ছে তা কি নির্দেশ করে? উন্নত দেশগুলো কি ভিক্ষা অনুমোদন করে না?

ভিক্ষাবৃত্তি এখন আর কেবল দারিদ্র্যের লক্ষণ নয়। এটি এখন একটি জটিল সামাজিক ব্যাধি। উন্নত দেশগুলো ভিক্ষা করাকে অপরাধ হিসেবে দেখে। যেমন, দুবাইয়ে ভিক্ষা করলে তিন মাসের জেল আর বড় অংকের জরিমানা গুনতে হয়। সেখানে ভিক্ষুকদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ভিক্ষার হার বেড়েই চলেছে। এটি মূলত অব্যবস্থাপনা আর সুযোগের অভাবকে নির্দেশ করে।

ভিক্ষা জিনিসটা একটা মানুষকে কীভাবে গড়ে তোলে? এটি কি প্রধান পেশা হয়ে ওঠে?

ভিক্ষা অনেক সময় মানুষের স্বভাবে পরিণত হয়। অনেকে বিনা পরিশ্রমে টাকা পাওয়ার সহজ পথ হিসেবে একে বেছে নেয়। তারা মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য বিশেষ অভিনয় বা কৌশল শেখে। ধীরে ধীরে এটি তাদের নেশা এবং প্রধান পেশা হয়ে দাঁড়ায়। এটি এখন আর বেঁচে থাকার লড়াই নয়, বরং একটি “লাভজনক ব্যবসা”। দুবাইয়ের সেই ভিক্ষুকের কথাই ধরুন। দিনে ভিক্ষা করত আর রাতে বিলাসবহুল গাড়ি হাঁকিয়ে বেড়াত।

অভাব বনাম আলস্য: এর জন্য দায়ী কে? শিশুদের অবস্থা কী?

সবাই যে অভাবে পড়ে ভিক্ষা করে, তা সত্যি নয়। শারীরিকভাবে সক্ষম হয়েও অনেকে কাজ করতে চায় না। কারণ তারা মনে করে কাজ করার চেয়ে ভিক্ষা করা সহজ। কর্মসংস্থানের সঠিক পরিবেশ না থাকা এবং সরকারি পরিকল্পনার অভাব এর জন্য বড় দায়ী। ভিক্ষা এখন একটি নিষ্ঠুর ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এখানে শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক সময় শিশুদের অপহরণ করে এবং অঙ্গহানি করে ভিক্ষায় নামানো হয়। ভিক্ষা এখন এক ভয়াবহ “মাফিয়া সিন্ডিকেট”।

দক্ষতা তৈরি এবং অক্ষমদের ভাতার ব্যবস্থা কি সরকারের দায়িত্ব?

তোপসে, বিষয়টা বেশ গোলমেলে। সরকার এখন এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে এক বড়সড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। এই কার্ডটি সাধারণত বাড়ির গৃহিণীর নামে দেওয়া হয়। এতে নাকি সংসারে নারীর ক্ষমতা বাড়ে। কার্ডে বারকোড থাকে যাতে কেউ জালিয়াতি করতে না পারে। প্রতি মাসে পরিবারগুলো দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পেতে পারে। অথবা ২৫ কেজি চাল, ডাল আর তেলের একটি খাবারের ঝুড়ি দেওয়া হবে। এতে একটি পরিবারের খাবারের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ মিটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কারা পাবেন এই সুবিধা? প্রথমে অতি-দরিদ্র এবং পরে ধাপে ধাপে মধ্যবিত্তরা এই তালিকায় আসবে। বিধবা, প্রতিবন্ধী এবং এতিমদের এখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সরকার প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনতে চায়।

তবে মগজাস্ত্র খাটলে দেখা যায়, এর পেছনে বিশাল এক টাকার খেলা আছে। সরকার বড় বড় প্রজেক্ট বা ‘মেগা-প্রজেক্ট’ থেকে টাকা সরিয়ে এখানে আনার পরিকল্পনা করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এতে দেশের দেনা অনেক বেড়ে যেতে পারে। ভারতের পাঞ্জাব বা রাজস্থানের মতো অবস্থা হবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। মনে রাখতে হবে, কেবল হাত পেতে নেওয়া মানুষের স্বভাব নষ্ট করে। তাই মানুষকে দক্ষ করে তোলা এবং কর্মসংস্থান তৈরি করাই আসল সমাধান। যারা একেবারেই অক্ষম, কেবল তাদের জন্যই ভাতার ব্যবস্থা থাকা উচিত।

ভিক্ষা কি সিন্ডিকেট? এটি কি জাতিকে পরনির্ভরশীল করে?

ভিক্ষার পেছনে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। একে ‘বেগার মাফিয়া’ বলা হয়। তারা অসহায় মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং উপার্জনের বড় অংশ কেড়ে নেয়। ভিক্ষা পুরো জাতিকে পরনির্ভরশীল করে তোলে। এটি সমাজের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে এবং অপরাধ প্রবণতা বাড়ায়। ভিক্ষা কোনো সমাধান নয়, বরং এটি একটি অভিশাপ।

সমাধান কী? প্রশিক্ষণ নাকি পেনশন?

কেউ আসলে স্বেচ্ছায় ভিক্ষা করতে চায় না। জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মানুষকে বাধ্য করে। সরকার এবং সমাজকে এই দায় নিতে হবে। যারা কাজ করতে সক্ষম, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে হবে। আর যারা অক্ষম বা বয়স্ক, তাদের জন্য মাসিক ভাতা বা পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই মানুষ এই অসম্মানজনক পেশা থেকে মুক্তি পাবে। সঠিকভাবে যাকাত এবং দান বিতরণ করাও এর একটি বড় সমাধান হতে পারে।